বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস শ্রমিকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ২১:৩১


:: প্রশান্ত কুমার দাস, বিশেষ প্রতিনিধি ::
বরিশালে বাস শ্রমিকদের কাছে জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, শেষ গন্তব্যের আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বাস শ্রমিকরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে, সোমবার (২৮ নভেম্বর)  দুপুর ৩ টা ৫ মিনিটের দিকে বরিশাল সদর থেকে একটি সিএনজি করে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে পটুয়াখালী- আমতলী, কুয়াকাটা বলে ডেকে যাত্রী তুলছে। তারা ওখান থেকে ডেকে নিয়ে আসে মের্সাস লিলি ফিলিং স্টেশন'র অপর সাইটে একটি ছাতার নিচে একটি চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে টিকিট দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। ওনার কাছে জানতে চাইলাম গাড়ি কখন ছাড়বে.? ওনার পাশ থেকে একজন বলে উঠলো আর ৫-৭ মিনিটের মধ্যেই গাড়ি ছেড়ে দিবে। ভালো সিট আছে। তাড়াতাড়ি টিকিট নেন। সাথে সাথে আমি আমার টিকিটটি নিয়ে নিলাম। এরপর গাড়িতে উঠে বসার কিছুক্ষণ পরে দেখি সিটে সকলে বসার পরেও দাড়ানো অবস্থায় কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী। 
বরিশালের রুপাতলী থেকে দুপুর ৩ টা ১৭ মিনিটের দিকে পরিবহনটি পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমার সাথে ছিলো একটি "ডেস্কটপ কম্পিউটার"। বাসের একটি সিট থেকে অরেকটি সিটের দূরত্ব খুবই কম থাকার ফলে হাঁটু সোজা করে বসার উপায় ছিলোনা। তারপরে আবার ভারী এই "ডেস্কটপ কম্পিউটার"। কি আর করার আছে, আমারতো দেখতে হবে কি হতে চলছে। বরিশাল থেকে চাঁন পরিবহন নামের (যার নাম্বার; বরিশাল-ব ১১-০০৮৫) গাড়িটি ৪ টা ১০ মিনিটে লেবুখালী ফেরিঘাটের কাছাকাছি জায়গায় থামায়।
একটু পর লক্ষ্য করলাম বাসের হেলপার যাত্রীদের নামতে তাগাদা দিচ্ছেন। হেলপার জানালো, বাস আর যাবে না। পরে পটুয়াখালী কেন যাবে না- জানতে চেয়ে কয়েকজন যাত্রী প্রতিবাদ করলে বাস শ্রমিকরা জানান, বাস আর যাবে না। আপনারা অন্য বাসে চলে যান।
পরে বাস থেকে বাধ্য হয়ে নেমে ভারী ডেক্সটপটি নিয়ে দাড়িয়ে রইলাম রাস্তার পাশে। কারণ, ঐ সময়ে উল্লিখিত স্থানে ২'টি অটোরিকশা ছিলো, তবে যাত্রী সংখ্যা ২৫ এর অধিক।
সুত্রে জানা যায়, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এই সড়কের পথে পথে যাত্রী হাত বদল হয়। বিশেষ করে বরিশালের যাত্রীদের পটুয়াখালী নেওয়ার কথা বলে লেবুখালী ও কুয়াকাটায় নেওয়ার কথা বলে চৌরাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় কুয়াকাটার পরিবর্তে আমতলি কিংবা কলাপাড়া ব্রিজেও নামিয়ে দেয়া হয়। যদিও বরিশাল থেকে ছেড়ে আশা সব পরিবহনে বরিশাল- কুয়াকাটা লেখা থাকে। ফলে যাত্রীরা না বুঝেই পরিবহন শ্রমিকদের হাতে প্রতারিত ও লাঞ্ছিত হন।
পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ মৃধা বলেন, এ বিষয়ে আমিও অবগত রয়েছি। ওনারা বরিশাল-কুয়াকাটা, আমতলী বলে যাত্রীদের ডাকে। এরপরে লেবুখালী (পায়রা সেতু) ব্রিজের উত্তরপাড়ে নামিয়ে দেয়। আমার পক্ষ থেকেও এবিষয়ে দাবী যে, ওনারা যেন লেবুখালী বা শেখহাসিনা সেনানিবাস বলে ডাকে। এবং গাড়ি থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মুছে তারা বরিশাল-লেবুখালী বা সেনানিবাস লিখে, যেহেতু তাদের সার্ভিস ঐ পর্যন্তই।
তবে এবিষয়ে বরিশাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এমএসি/আরএইচ