প্রধান শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় আ.লীগ নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি 

রবিবার ২২ জানুয়ারী ২০২৩ ১১:৩২


রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নরুন্নবী নামের এক প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে পেটানোর ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল পদ-পদবী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত ৯টায় রৌমারী প্রেসক্লাবে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে ওই নেতাকে অব্যাহতি দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোরায়রা। তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) উপজেলার ফুলকারচর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরুন্নবীকে মারপিট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন। ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় ফোলাও করে প্রচার হয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে রোকনুজ্জামান রোকনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল পদ-পদবী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফেরদৌস আল মাহমুদ পলাশ, সহ-দপ্তর সম্পাদক সুমন মিয়া, সাবেক দপ্তর সম্পাদক রমেশ চন্দ্র সাহা চন্দন, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি হারুনর রশিদ, যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল করিম, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে শিক্ষা অফিসে যান ফুলকারচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরুন্নবী ও তাঁর বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুর রশিদ। কাজ শেষে শিক্ষা অফিস থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা চত্বর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা রোকনুজ্জামান রোকন ও তাঁর লোকজন ওই প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে যান। প্রথমে তাঁকে উপজেলা চত্বরের পাশেই পলি পরিবহণের বাস কাউন্টারে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ওই প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হয় রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোরায়রার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে। সেখানে ঘটনা খুলে বলতে থাকেন ভুক্তভোগি ওই প্রধান শিক্ষক নরুন্নবী। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের গালে এলোপাথারী চড়থাপ্পর ও কিল ঘুষি মারতে থাকেন। তা দেখে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ধাক্কা দিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে আহত ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই ভুক্তভোগি ওই শিক্ষক বাদি হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ওই প্রধান শিক্ষককে মারপিটের সিসিটিভির একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে শিক্ষক সমাজের ক্ষোভসহ সারাদেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এঘটনায় শনিবার বিকেলে ওই আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামানসহ দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা হয়।

এমএসি/আরএইচ